শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন সরকারের অনুকূলে ২০৩.৪৭ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর।
মোঃ শাহরিয়ার রিপন ঃ- চট্টগ্রাম
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) কর্তৃক বাস্তবায়িত ৬টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের জন্য গৃহীত ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত Subsidiary Loan Agreement (SLA) মোতাবেক কিস্তি এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ঘোষিত লভ্যাংশ থেকে সরকারের পাওনা বাবদ মোট ২০৩.৪৭ (দুইশত তিন কোটি সাতচল্লিশ লক্ষ) কোটি টাকার চেক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের নিকট হস্তান্তর।
বিএসসি’র জন্য জি-টু-জি ভিত্তিতে ৬টি জাহাজ ক্রয়/সংগ্রহের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত ‘৬ (ছয়)টি নতুন জাহাজ ক্রয় (প্রতিটি প্রায় ৩৯,০০০ ডিডব্লিউটি সম্পন্ন ৩ টি নতুন প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার এবং ৩ টি নতুন বাল্ক ক্যারিয়ার)’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ সরকার (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) ও চীন সরকার (চায়না এক্সিম ব্যাংক)-এর মধ্যে ১৪ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে একটি ঋণচুক্তি (Loan Agreement-LA) স্বাক্ষরিত হয়। উক্ত ঋণের মূল বা আসল (Principal) এর পরিমাণ ১,১৯৯,৯৯৯,০৭০ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪৫৭,৬৭,৯৮,৭৮৫/- (এক হাজার চারশত সাতান্ন কোটি সাতষট্টি লক্ষ আটানব্বই হাজার সাতশত পঁচাশি) টাকা। এরই ধারাবাহিকতায় উক্ত ঋণ পরিশোধের জন্য গত ২৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে সরকারের অর্থ বিভাগ ও বিএসসি-এর মধ্যে অপর একটি Subsidiary Loan Agreement (SLA) স্বাক্ষরিত হয়। সে প্রেক্ষিতে মোট ২,৪২৫.০২ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার (অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়)-কে বিএসসি হতে ১৩ বছরের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। স্বাক্ষরিত SLA চুক্তি অনুযায়ী গ্রেস পিরিয়ডকালীন মোট সুদের পরিমাণ ৪৭৫,২৫,১৩,৩৪০/- (চারশত পঁচাত্তর কোটি পঁচিশ লক্ষ তেরো হাজার তিনশত চল্লিশ) টাকার চেক গত ২৬ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রকল্পটির মাধ্যমে সর্বশেষ জাহাজ সংগ্রহের সুদীর্ঘ ২৭ বছর পর গত ২০১৮-১৯ মেয়াদে বিএসসি’র বহরে উক্ত ০৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ যুক্ত হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় সংগৃহীত ০৬টি জাহাজের মধ্যে ০৫টি জাহাজ (এম. ভি. বাংলার জয়যাত্রা, এম. ভি. বাংলার অর্জন, এম. টি. বাংলার অগ্রযাত্রা, এম, টি, বাংলার অগ্রদূত এবং এম. টি বাংলার অগ্রগতি) বর্তমানে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পরিমন্ডলে পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে এবং বাংলাদেশের পতাকা স্বগৌরবে বহন করে চলছে। উল্লেখ্য, বিএসসি ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বশেষ অর্থবছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় করে সর্বোচ্চ মুনাফা (৩০৬.৫৬ কোটি টাকা) অর্জন করে। বিএসসি’র ক্রমাগত এই অগ্রগতিতে প্রকল্পের মাধ্যমে বহরে সংযুক্ত ০৫টি জাহাজের ভূমিকা অপরিসীম।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বিএসসি এরই মধ্যে বেশ কিছু নতুন জাহাজ সংগ্রহের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ০২টি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংগ্রহের আওতায় ১ম জাহাজ (বাংলার প্রগতি) গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ডেলিভারি গ্রহণপূর্বক বাণিজ্যে নিয়োজিত করা হয়েছে। এছাড়া, ২য় জাহাজটি (বাংলার নবযাত্রা) আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ডেলিভারির জন্য সূচী নির্ধারিত রয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি অর্থায়নে ২টি এমআর প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার এবং নিজস্ব অর্থায়নে ১টি আল্ট্রাম্যাক্স আকারের বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ অর্জনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সর্বোপরি, চীন থেকে জি টু জি ভিত্তিতে আরো ০৪টি নতুন বড় জাহাজ (মাদার ভেসেল) সংগ্রহসহ বেশ কিছু জাহাজ অর্জন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।